all that i see

Tuesday, July 20, 2010

কর্মযজ্ঞ




কারখানার বিশাল ফটকের ভিতরে শ্রমিকেরা ইতস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এর তার সঙ্গে একটু আধটু আলাপ, বিড়ি টানা। ম্যানেজারবাবুরা তখনো এসে পৌছননি। শ্রমিকেরা এই চৌহদ্দির মধ্যেই থাকে, তাদের দূর দুরান্ত থেকে কাজে আসতে হয় না। তাই ম্যানেজারবাবুদের জন্য অপেক্ষা। তারা এসে হুকুম দিলে সেইমত শুরু হবে খাটুনি।
বাবুদের বহন করে আনা গাড়িগুলো ফটকের বাইরে এসে দাড়াবার শব্দ পাওয়া যায়। ফটক এক্তু ফাঁক করে একে একে পিলপিল করে ম্যানেজার বাবুরা ভিতরে ঢুকতে থাকেন। কেউ কেউ এসে সোজা তার অধিভুক্ত শ্রমিকদের উপর হম্বি তম্বি শুরু করেন। কেউ এসে আগে একটু অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। সারাদিনে হাতে কি কি কাজ় করতে হতে পারে তার আন্দাজ করে। সবাই প্রস্ততি নিতে থাকে কাজের ঘন্টা বাজার জন্য। যেন ঘন্টা বাজার সাথে সাথে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।
এক সময় সংকেত আসে কাজ শুরু করার। একদল শ্রমিক ছুটে গিয়ে ঘন্টায় বাড়ি দেয় সবাইকে সতর্ক করতে। শোরগোল শুরু হয়ে যায়। ম্যানেজাররা উঠে দাঁড়িয়ে হুম হাম শুরু করে। শ্রমিকরা তার সামনে দাঁড়িয়ে হাতে হাতে রঙের বালতি চালান দিতে থাকে। কেউ সেই রঙ ঢেলে দেয় পাইপের মধ্যে, কেউ জমা করে বড় ড্রামে। একদল শ্রমিক ম্যানেজার বাবুদের নির্দেশ মত দু'টা রঙ মিশিইয়ে তৃতীয় আরেকটা রঙ বানায়। আরেক দল ম্যানেজারের হুকুমে কিছু শ্রমিক নির্দিষ্ট রঙের বালতি পৌছে দিতে থাকে কারখানার পিছনে দাড়া করানো বিশাল কাঁচের জ়ানালার কাছে। কয়েকশ তলা উচু সেই কাঁচের জানালার পিছে ইস্পাতের কাঠামো গড়ে জ়ানালাটাকে ভাগ ভাগ করে ফেলা হয়েছে অনেক গুলা ছোট ছোট জানালাতে। প্রতি তলায় সারি সারি জানালা তাই।
ঘন্টা বাজার কয়েক মিনিটের মাঝেই বালতি বালতি রঙের যোগান এসে হাজির হয় জানালার কাছে। ইস্পাতের কাঠামোর প্রতি তলায় এতক্ষণ অপেক্ষা করা থাকা শ্রমিকেরা এবার কাজে নেমে পড়ে। রঙের বালতি হাতে নিয়ে নির্দিষ্ট জানালা গুলো কেবল রাঙ্গাতে থাকে। তার পিছে আরেকজ়ন যেতে থাকে আরেক রঙ্গে বাকি জানালাগুলোয় রঙ লাগাতে লাগাতে, ঠিক যেমনটা ম্যানেজারবাবু নিচ থেকে চিৎকার করে নির্দেশ দিয়ে চলছেন।
দু'তিন সেকেন্ডের মাঝেই পুরো জানালাটা রঙ্গিন হয়ে উঠে আর জানালার ওপাশের পৃথিবী থেকে দেখা যায়, বাক্সবন্দী জানালায় লেখা হয়ে ফুটে উঠেছে , "Starting Windows".


গত কয়েক যুগের সিলিকন বিজ্ঞানীদের শ্রম ও আবিষ্কারের প্রতি নতমস্তক বিনম্র অভিবাদন। কি জিনিষ বানাইছে একখান। ইলেক্ট্রনের ছুটছুটি নিয়ন্ত্রণ করে এলাহি কান্ড। কোটি কোটি ট্রানজিস্টর এমন করে ফিট করে ছেড়ে দিছে, সব চুপ চাপ কাজ করে সেবা দিয়ে যাচ্ছে এতকাল। একটা সচল এক মুহুর্তে কতগুলা ট্রানজিস্টর ঠিক ঠাক মত নাচাইতে পারলে মাউজের পয়েন্টার টা এক পিক্সেল নড়ে? মানুষ একটা চিজ বটে!

Wednesday, July 14, 2010

ছন্দে ফেরা

কেমন যেন তাল কেটে গেছিলো। "বিষন্নতা একটি রোগ।" খুব হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। এখন এর থেকে পরিত্রাণ পেয়েছি বলেই মনে হচ্ছে। আপাতত। কিন্তু কাজে মনোযোগ আসি আসি করেও আসছে না। কি করাযায়? অস্মাপ্ত কাজের একটা তালিকা বানিয়ে নিয়ে বসা যায়। কিন্তু সে তালিকা যে এত বিশাল , তার দিকে তাকালেই উৎসাহ শুকিয়ে যায়। ঠান্ডা মাথায় একটা তালিকা করা যাক। বাস্তবসম্মত। আজাইরা কাজ সেই লিস্ট থেকে বাদ । পাশে কাজ সমাপ্ত করার শেষ সময়। তারপর সেটাকে এক্সেলে নিয়ে সাজিয়ে ফেললে হয়। নাকি প্রজেক্ট ব্যাবহার করব। হুম্‌ম্‌ম্‌! অবশ্য গুগলের টাস্ক লিস্ট টাও একি কাজ করে। কিন্তু আমি তো যেখানেই তালিকা করি না কেন, সেটাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করি।
কোথাও আমাকে শুরু করতে হবে। কাজ করতে হবে দ্রুত, একটা কাজ ধরে শেষ করে দিতে হবে। তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা। এভাবে শেষ হতে থাকবে আবার জমতে থাকবে। এভাবেই চলবে। চলুক। শুরু করি তবে।