all that i see

Friday, January 27, 2017

Capabilities

How much am I really capable of? What can I do? WHat can;t I do? What I want to do?
I want to do a lot. But seems like I dont have the energy or the tenacity to finish or follow through. I dump it on people to finish the job. Always, often, every time.

I always seek fulfillment, thrill, for the next thing. Am I addicted? Yes. But there are that kind of people in the world. The starters, the pathfinders. They start ideas, projects, industries, then leave it on people who are executors, finishers to finish. How often do you see one person doing all of the work? Maybe small tasks. Yes. But big things need different people with different aptitude at different stage of progression.

Yes, my house is a mess. I am not really doing a decent or fair job as a mother. Abboy is very neglected right now. Should I not have had a child? It was a choice. It was fun. But now I am trying to leave it behind. And I cannot. I have brought him in this world. I should take care of him properly. He is my responsibility until he can be on his own. This was the project. It is not the time to leave him behind yet. This is your biggest project. Focus here. Dedicate yourself here. He is so wonderful.

Wednesday, August 10, 2016

Next!

I have set my next goal in life.
I have been setting goals and couldn't invest my heart into them. Cause heart didn't believe in them fully. This sounds like a thing my heart wants to go for.
I see a future in becoming a freelancer analog IP designer. It sounds like a possible career to have. For the time being it will not be bringing money. So I also need to sustain my day job.
I wanted to be analog engineer. Open source hardware gives the opportunity to be just that without having to be employed by a company for that. You can be a freelancer. I must dig deep into it. Guage my competition and capabilities. But first I must build my capabilities. I want to be ready.

So my goal is to have my own IP out there by 300 days. In next 300 Days I'll look to monetize IP Making.

Meanwhile in these 600 days, I must seek to sustain my job. I need to have a promotion soon to survive. So, I need to do prove myself on that front as well. Not just linger on. That plan has to work along with my manager. Now I can do it, because I have to do it to survive and keep my dream going. Just like how I have to eat to do other fun stuff.

What am I gonna get done in next 300 days?
1. MIT courses done
2. efab P.allen courses done
3. Jake Baker books done
4. Elad alon courses done
5. pick a sample IP datasheet from the efab and try to replicate it or make the spec somewhat better and try to meet that.

6. Stretch goal  : Have an entire IP portfolio for myself of all possible designs. Add my reconfigurable analog twist to it.

Process adaptive reconfigurable analog design. If process corner varies, then how it can auto compensate for it. 

Monday, December 30, 2013

এসো বিজয়ের গল্প বলি

 আমরা কেবলই ভুলে যেতে চাই আমাদের অতীত। যারা একাত্তরের সেই গৌরবময় অধ্যায়ের নায়ক তারাও আজ অভিমান করে ভুলে যেতে চান ঐ বছরটিকে। ঐ একটি বছর এখন আর তাদের গৌরবের আত্মত্যাগের গল্পগাথা নয়, ঐ বছরটির দুঃখের স্মৃতি গুলোই কেবল তাদের মনে দগদগে ক্ষতের মতো জেগে থাকে। গর্বিত হবার অধিকার এখনকার পা চাটা রাজনীতিক আর রাজাকারের দল তাদের থেকে ৪০ বছরে একটু একটু করে কেড়ে নিয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে ১৯৭১ কেবলই পরীক্ষার সিলেবাসে ইতিহাস বইয়ের কিছু পাতা আর পরিসংখ্যান মাত্র। এহেন প্রজন্ম যদি আজ ভারত, কাল পাকিস্তানের লেজ ধরে নাচানাচি করে তবে অবাক হবার কিছু নেই। আমরা তো তাদের নিজ দেশের জন্য গর্বিত হবার সেই অনুভূতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেইনি। আমরা তো তাদেরকে কখনো ইতিহাসের সেই সব বীভৎস মূহুর্তগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেইনি, যে একজন পাকিস্তানকে ভাই বলে বুকে জড়িয়ে ধরার আগে একবার অন্তত বুক কেঁপে উঠবে। সচল, ICSF,  ফেসবুকে অনেকগুলো গ্রুপ  আরো অনেকে ১৯৭১ এর তথ্য প্রমাণ, ভুল তথ্যের ব্যাবচ্ছেদ করতে অত্যন্ত সচেষ্ট। কিন্তু দিন শেষে, একজন মানুষ হয় কারন, তার মন আছে। তথ্য প্রমাণ দিয়ে মানুষের মনে ভালবাসা সৃষ্টি করা যায় না। এটা সম্পূর্নই অনুভবের ব্যাপার। যুক্তি-পরিসংখ্যান যাই বলুক, যেদিন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল জিতে সেদিন সব ভুলে আমরা দেশকে ভালবাসি, প্রতিপক্ষ হোক না কাগজে কলমে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বা র‍্যাংকিং-এ ১ নম্বর। ছোট ছোট বিজয়ে আমরা আপ্লুত হয়ে যাই, বিরাট প্রতিপক্ষকে শুইয়ে দেয়ার আনন্দে আত্মহারা হই। কিন্তু এ তো নতুন কিছু নয়। এই তো আমাদের জাত, আমরা ভুলে যাই ভবিতব্যের বিরুদ্ধে আমাদের সবচে' বড় জয়ের কথা। ১৯৭১ এ কি ঠুনকো খেলনা সব অস্ত্র দিয়ে আমরা বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর একটা সেনাবাহিনীকে স্রেফ নেংটো করে ছেড়ে দিয়েছিলাম। সেই জয়ে কেবল ১১ জন বীর সেনানী ছিল না, ছিলাম আমরা সবাই, আমাদের বাবা মা, দাদা নানা, চাচা মামারা সবাই সেই সময়টা যার যার অবস্থানে থেকে যার যার মতো লড়েছেন। সেই বিজয়ীর জিন আমরাও আমাদের রক্তে বহন করে চলেছি। আমরা নিজেদের নিয়ে গর্বিত নই কেন?

কারন, আমরা জানিই না, যে আমাদেরও গর্বিত হওয়ার মতো অনেক কাহিনী আছে। সেসব কাহিনী খুঁজতে আপনাকে মুক্তিযুদ্ধের দলিল ঘাটতে হবে না। প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি পরিবারে লুকিয়ে আছে অসংখ্য গল্প, আনন্দ-বেদনার, শঙ্কা-অপেক্ষার, গর্বের-ক্রোধের। হয়ত ছিটেফোটা কখনো কানেও এসেছে, কিন্তু পুরোটা কখনো শোনা হয়নি মনে দিয়ে। সেই সময়টা যারা পার করে এসেছেন, বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধারা, তারা আরও অনেক বেশি অভিমানী আজ, সরকার বা দেশ তাদের মূল্যায়ন করেনি, সম্মান করেনি, তারা আজ প্রাণপনে ভুলে যেতেন যৌবনের উচ্ছাসে দেশকে নিঃশর্ত ভালবেসে ফেলার ভুলটুকু। আজ ৪২ বছর হয়ে গেল, অভিমান বুকে চেপে রেখে রেখে এই মানুষগুলো এখন একজন দু'জন করে হারিয়ে যাচ্ছেন। আমাদেরকে, বর্তমান প্রজন্মের জন্য অনেক প্রশ্ন আর ইতিহাসের পাতায় অনেকগুলো ফাকা পৃষ্ঠা রেখে। তারা সবাই হারিয়ে যাবার আগেই কি তাদের বুকে গোপনে লুকিয়ে রাখা গল্প গুলো সযত্নে আমাদের সংগ্রহ করে রাখা উচিত নয়? এর পরে যে প্রজন্ম আসবে তাদেরকে শোনাবার জন্য হলেও এইসব গল্প প্রতিটি পরিবারে সংগ্রহ করে রাখা প্রয়োজন। একটা পিচ্চি চোখ গোলগোল করে গল্প শুনছে, " জানিস তোর দাদা না যুদ্ধের সময় এইরকম বুদ্ধি করে এতগুলা শ্ত্রু সৈন্যকে হারিয়ে দিয়েছিল..." ভাবতেই তো কত ভাল লাগে। সত্য কাহিনীর যখন অনেক দূরের অপরিচিত কেউ না হয়ে অতি চেনা প্রিয়জন কেউ হয়, তবে আবেদন হয় অন্যরকম, মনে দাগ কাটে অনেক গভীরভাবে। ঘরের মাঝে অবিশ্বাস্য সত্য ঘটনা ঝুলি থাকতে বাইরে তাকানো কেন বাপু?


কিন্তু এই এত্ত এত্ত গল্প সংগ্রহ করবে কে? কেন? আমরাই করব! জিজ্ঞেস করছেন, কীভাবে? এইখানে একটা ব্যাক্তিগত ঘটনা বলি। ক্লাস এইটে পড়ি তখন, বছর শুরু হয়ে গেলেও বোর্ডের বই তখনও হাতে আসতে মাসখানেক দেরি। ছাত্র ছাত্রীদেরকে ব্যাস্ত রাখতে সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষিকা আমাদের একতা বছর ব্যাপী প্রজেক্ট ধরিয়ে দিলেন। বছরশেষে এর জন্য ১০টা নম্বর বোনাস পাওয়া যাবে। এম্নিতেই সমাজ বিজ্ঞানে নাম্বার উঠে না, বোনাস নাম্বারের লোভে আমরা ঝাপিয়ে পড়লাম। প্রজেক্ট টা ছিল, ১৯৫২-১৯৭১ পর্জন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস সমন্ধে ছবি, পেপার কাটিং, যা পাওয়া যায় সংগ্রহ করে একটা স্ক্র্যাপ বুক বানাতে হবে। তখনও ইন্টেরনেট এদেশে আসেনি। সারা বছর পেপারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক যেকোন লেখা ছবি খুঁটিয়ে পড়তাম, ছবি কেটে রাখতাম, বাবা মাকে জ্বালাতাম, আরো পত্রিকা এনে দেওয়ার জন্য। স্রেফ দশটা নাম্বারের জন্য সমাজ শিক্ষিকা আমার ভিতরের আর বাইরের চোখ পালটে দিলেন। সেই যে বাংলাদেশের ইতিহাস খোজার একটা স্বভাব তৈরি হলো, সেটা এখনো ছাড়তে পারিনি। আগের কথা মনে নেই, কিন্তু এর আগে পত্রিকায় যখন এসব ছবি দেখেছি বীভৎসতা সইতে না পেরে প্রায়ই চোখ ফিরিয়ে নিয়েছি, কিন্তু যখন নিজে খুজতে লাগি, তখন ফেব্রুয়ারির রোদে রাস্তায় গড়িয়ে পরা রফিকের মাথার ঘিলু আমার আত্মায় আঘাত করে, কুকুরের মুখে মৃত শিশুর দেহ দেখে পাক সেনাদের পিশাচ মনে হতে থাকে, বুকে মাইন বাধা আমার বয়সী কিশোরকে দেখে তার সাহসে মুগ্ধ হয়ে ঐ লুঙ্গি পরা খালি গা বালকের প্রেমে পড়ে যাই। জোর করে ইতিহাস গেলানো নয়, যখন ইতিহাস খুঁজে বের করতে প্রলুদ্ধ করা হইয়, তখন পুরো ইতিহাস আমার চোখের সামনে সাদা কালো থেকে রঙ্গিন হয়ে উঠে। দেশকে নিয়ে উপলক্ক্য ছাড়াই গর্বিত বোধ করতে পারি। 

Wednesday, October 30, 2013

Picking up where I left off

What I feel is that I had not been myself for last 2-3 years. I was lost wandering around trying to get back to the road that I want to travel on. Only lately with the kido inside me, I feel like I am finding myself back. It has been so long that I almost forgot who I am as a person, what are my strengths and characteristics and was trying desperately to get back to some functioning state that is somewhat acceptable to me. In other words I was hating what I had become. It was not me and I didn't like her. Now as I think how I want to raise my boy, I am also finding how I want to be, where I want to be. Thank you my little man.

A few things I would like to do career-wise from now on. I think I have found quite a comfort zone for working at the moment. With this peace of mind I can invest in building towards my goal. I want to keep daily record of things as I am working on them. But I also want to send out a monthly to my manager to tell him about it, so he also knows when to recognize my good works. I want to be excited about working on something and also excited about announcing it to everyone. That is me, I kinda like to boast but in a humble fashion. To do this the easy thing would  be start drafting the monthly email beginning of month and add to it every time I accomplish something. The send it out end of the month. Another monthly ritual I want to build for myself is to keep updating my resume regularly with accomplishments and skills. Something that you want to be proud of sharing with people.

On the home front, I feel like I am afraid of people coming over to my house because I keep it so messy. I  don't like the afraid feeling. I basically don't like anything that makes me feel guilty or incompetent. So, I want to have minimal house keeping done at house so I am not scared of people showing up at my house and finding it smelly/ dirty. I want to maintain a minimum standard of living in the house for the kido. Basic Cleanliness is the only thing that is important for the house. I should keep things in order so I can tell kido to maintain that order and standard. Fancy stuff comes after the basics.

I feel positive, I feel braking out of depression, and I feel a new horizon lighting up and lets keep moving towards that goal. More power to me. :D 

Friday, August 24, 2012

purpose in life

yes, teh purpose is not so clear to me right now. I am obviously lost. But I can try to make the best of the times and cards dealt to me. The things I recently noticed in myself.

I lack humility. My cup is full, I am gloating voer things that I;ve done, which is preventing me from doing more. When you are full and not that hungry you consume absorb less. Which is what is happening to me. I am gloating over the fact that I am very humble . which is not true humility. There is so many things that I don't know and dont do or ever did. I am looking outside and thinking there is so much I am missing out on. Intentions only are not good enough to gloat and be satisfied ith. Until or unles you deliver there's nothing to be proud of. I think I've had enough of the gloating period. Now its better to get in the act. and start striving for a new level of achievements. Sad thing is that it took me so long to realize that I was gloating.


Also I must practice control over myself. There are so many times when I dont want to do what I should be doing. I am not following the plans that I make. This is a moments half hearted pleasure, of following instinct, but comes back to sting you with a pang of guilt and of course the mess that it leaves behind. So I must, stick to the plan and it will take practice, regular practice.

I must humble myself and strive for greatness, through rigorous practice of self control.

Tuesday, August 14, 2012

Change is inevitable

When you don't like things in your life, do not complain but take measures to change what you don't like. Let's make a list of the things I don't like at my life right now.

1. That I am not close to any family. I am done enjoying a single life. I like living with someone better. 
    How to change it: 

  • I must find a job in Folsom. 
  • I must touch base with managers again. 
  • Schedule a 1:1 with my HR manager. 
  • Summarize job postings on the jobs at Intel post and start talking to the hiring managers. 

2. That I am not giving my best at work. Being distracted all the time and not accomplishing any of the goals. Not keeping commitments.  
    How to change it: 

  • Separate work focus and personal interest focus. 
  • Be loyal and honest to the company. Use your time what they are paying you for. 
  • Take responsibility and give your best effort. 
  • I want to have good reputation and I must earn it by keeping commitments and delivering results.
  • Focus on achieving results. 
  • When at work, dedicate your entire focus to Intel. You owe them that. 

3. That I do not have a plan of what I am doing next or not following the plans I make. 
    How to change it: 

  • Admit that you suck at multitasking and focus on doing one thing at a time. That is how you perform your best. 
  • Practice focusing on sticking to the plan. Practicing enforced till end of 2012 beginning today. 
  • Allocate hours to work on a task and get a specific result. If cannot be finished then wrap up and allocate time later, but move on to the next task on the plate. Document what you did. 
  • Always plan the next day before leaving the workspace. 

4. That I don't have a baby. 
     How to change it: 

  • Talk to doctor about health condition and concerns.
  • Accomplish change 1. 
  • Accomplish change 7.

5. That I haven't been to Bangladesh in a long time.
    How to change it: 

  • Talk to lawyer about travelling.
  • Collect required papers.
  • Schedule travel time. 
  • Distribute work plans.

6. That I have too many small projects unfinished at the same time. 
    How to change it: 

  • Score them by time required to finish and priority/ urgency. Add two numbers.
  • Start with project requiring least number. finish one after another. 
  • Revisit number every month. 

7. That I am physically unfit.
    How to change it: 

  • Eat three proper meals everyday. Force yourself to eat healthy portions.
  • Every morning do a yoga workout using youtube videos. 
  • Run at the gym to train for marathon after work ( or body pump class when schedule permits). 
  • Take your pre-natal and calcium.

    

Monday, August 13, 2012

লাল পাহাড়ের দেশে


    ডিসক্লেইমারঃ  এই পোস্টের কোন ছবি কোন রকম পোস্ট প্রসেসিং করা হয়নাই। 
    পায়ের তলায় সর্ষে অলা এক পর্যটকের ভয়ে আজকাল সচলে ভ্রমণ ব্লগ দিতে কলিজা লাগেডুপ্লিকেট পোস্ট হয়ে যায় কিনা এই আশংকায় অনেকদিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরে ধারণা হইলউনার পাসপোর্টে সীল ছাপ্পরের বহর দেখে আম্রিকান সরকার নির্ঘাৎ তেনারে সন্ত্রাসী ঠাউরেছেএখনো এই ভু-খন্ডে পা দিতে পারেন নাই উনি পোস্ট দেবার সুযোগ পাবার আগেই তাই একখানা পোস্ট ঠুকে দেই এই বেলা ভেবে লেখার সাহস করলাম

    বর্ণনা শুরুর আগে একখানা গান দেখেন যারা MI-2 দেখে কেবল নায়িকার দেহ বল্লরী স্মরণে রেখেছেন তাদের স্মৃতি পরিষ্কার হবে নায়ক সাহেব সিনেমার শুরুতেই তার দুঃসাহস প্রমাণের জন্য প্রথমেই এক দুর্গম পাহাড়ের কানা ধরে ঝুলায়মান থেকে যে অপার্থিব দৃশ্য অবলোকন করেছিলেনসেই দৃশ্যাবলীই আপনাদের দেখাবোতবে কিনা অত উঁচু থেকে নয়,  মাটির কাছাকাছি  থেকে গানটা ছেড়ে দিয়ে স্ক্রল ডাউন করতে থাকুন



    আম্রিকা দেশটা মেলা বড়এক ধার থেকে আরেক ধার যাইতে যাইতে আকাশ বাতাস সময় সব পালটায় যায় হলিউড মুভি দেখলে মনে হয় আম্রিকা মানে নিউ-ইয়র্ক যেইখানে নানান কিসিমের ভিলেইন এটাক করেদালান কোঠা দিয়ে ভর্তি। কিন্তু প্রকৃতিক বৈচিত্র্যময় জায়গাও কম নাইযেইখানে খান-দানী ভিলেইনদের আনাগোনা কম ( এইজন্যই নায়ক সাহেব শান্তিতে ছুটি কাটাইতে এইসব জায়গায় ঝুলাঝুলি করতে যান) এই জায়গাটা হইল আম্রিকার উত্তর পশ্চিম দিকে চারটা রাজ্যব্যাপী। এরিজোনাইউটাহ,কলোরাডো আর নিউ মেক্সিকোর) চারটা কোনা এসে মিলেছে যে খানে সেই এলাকা জুড়ে এই আজব ভৌগলিক বিস্তার যদিও আর্চেস ন্যাশনাল পার্ক নামে পরিচিত যে জায়গাটা সবচে বেশি দর্শনীয় সেটা ইউটাহ এর অংশ লালপাথুরে মাটি সোজা আকাশ ফুড়ে উঠে গেছে গাছপালাহীন ধু ধু লাল প্রান্তরের মাঝে মাথায় ডান্ডা মেরে অজ্ঞান করে কাউকে  এনে ছেড়ে দিলে জ্ঞান ফিরে প্রথমেই মনে হবে বুঝি এলিয়েন এবডাকশন করে মঙ্গল গ্রহে এনে ফেলেছে দুইন্যার এইসব জায়গায় আসলে মনে হয়কেম্নে কী?


    সেপ্টেম্বরের কোন এক মেঘলা ভোরে 'বুলা'কে নিয়ে রওনা হলাম ইউটাহ এর দিকে। মাঠ ঘাট, পাহাড় পর্বত কত কিছু পেরিয়ে সল্ট লেক সিটিতে পৌছলাম সেটার বর্ণনা না হয় আরেক পোস্ট হবে, দু'দিন এদিক সেদিক ঘুরে এই পথ ধরে এসে হাজির হলাম আর্চেস ন্যাশনাল পার্কে।


    এরপর শুরু হলো পাহাড় গা বেয়ে একে বেকে উঠে যাওয়া পথে গাড়ি নিয়ে।






     ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে কখন যে চোয়াল ঝুলে পড়ে হুঁশ থাকে না। এদিকে তাকাতে গেলে আরেকদিকে কিছু একটা চোখের কোণা দিয়ে মিস হয়ে যায়। তাই এই জায়গাটা দেখে গাড়ি থামিয়ে নামতেই হলো।
    এই জায়গাটার নাম দেয়া হয়েছে পার্ক এভেন্যু। মাঝ দিয়ে চলে গেছে একটা পায়ে চলা পথ। চাইলে ঐ পথে হেটে পার্ক এভেন্যু পার হওয়া যায়, অলস বাঙালি বলে ঐ পথে পা বাড়ানো হলো না, তাছাড়া ম্যাপ বলছে তখনো পার্কের সিকি ভাগও দেখা হয়নি।


    এই খাড়া দেয়াল কোন মানুষের হাত ছাড়া প্রকৃতি বানিয়েছে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। দুই দিকে স্কাই স্ক্র্যাপারের সমান উচ্চতায় মাথা তুলে থাকা এইসব প্রাকৃতিক স্থাপনা দেখলে মনে হতেই পারে যে বুঝি পার্ক অ্যাভেন্যু দিয়ে যাচ্ছি। সারদিন এক খানে বসে কাঁটিয়ে দিতে ইচ্ছে করলেও উঠে রওনা দিতেই দেখা হলো এক স্থানীয় বাসিন্দার সাথে।




    একটু এগোতেই চোখে পড়ল ঝগড়ারত তিন কুটনী মহিলার উপর।


    ঐ পাথর টা ঐ মাথায় গেলই বা কিভাবে আর ভারসাম্য বজাইয় রেখে আছেই বা কিভাবে। ওর পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে যেতে সতর্ক চোখ রাখি কোনটা গড়িয়ে পড়ে কি না এই ভয়ে।







    এইরকম কেবল একটা দুইটা না, যেদিকেই তাকিয়ে অবিশ্বাস্য সব ভারসাম্যের খেলা। পার্কের অন্যতম বিখ্যাত পাথরেরে নাম "ব্যালান্সড রক"। প্রায় ৫৫ ফুট উচু এই পাথর কোনরকমে দাঁড়িয়ে আছে সরু একটা স্তম্ভের উপর।
    একটু গুতা টুতা দিয়ে দেখলাম নড়ানো যায় কি না।



    বেশি একটা লাভ হইলো না। মানুষের সাথে তুলনা করলে বুঝা যায় পাথরটা কত্ত বড়।


    এইখানে খাওন কয় ছবি তুলার পর আবার আগানো শুরু হইল, উদ্দেশ্য ডাবল উইন্ডো নামের আর্চ দেখা। রাস্তা থেকেই দূরে তার নিশানা দেখা গেল। 

     কিন্তু ম্যাপ বললো কাছে গিয়ে দেখতে হলে হাটতে হবে মাইল দুয়েকের মতো। সময়ের অভাবে তাই লোভ সামলে ক্যমেরা জুম করে দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে হলো।

    এভাবেই দেখে নিলাম আরো কয়েকটা আর্চ। 
     আরো কত যে ভালো করে দেখা বাকি রয়ে গেল।


    আফসোস ভুলে তাড়াতাড়ি চললাম, যেটা দেখতে এতদূর এসেছি সেই বিখ্যাত ডেলিকেট আর্চের দিকে। একদম পাহাড়ের কানায় কোন রকম সাপোর্ট ছাড়া একাকী দাঁড়িয়ে আছে এই আর্চ। যেখানে গাড়ি পার্ক করা যায় সেখান থেকে এক চিমটি দেখা গেল এইরকম।

    কিন্তু এইটুকু তে কি আর মন ভরে, তাই ভর দুপুরের রোদ মাথায় করে পা বাড়লামা ১।৫ মাইলের হাইকিং ট্রেইলে। ট্রেইলের গোড়াতেই একটা ধ্বসে পড়া কেবিন, সাথে সাইনবোর্ডে লেখা "ওলফ র‍্যাঞ্চ", এই এলাকায় প্রথম বসতি স্থাপন করা পরিবার।
     এই ঘোলা পানির উৎস ভরসা করে ছেলে পিলে নিয়ে বসতি গেড়েছিল এরা।
    পাহাড়ের ঢাল বেয়ে যে যেমন খুশি ঊথে যাচ্ছে, তবে তার মাঝেও সহজ পথ চিনিয়ে দেয়ার জন্য পার্ক রেঞ্জাররা পাথর সাজিয়ে ট্রেইল চিহ্নিত করে রেখেছে।

     সাইনবোর্ড বসিইয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশটা নষ্ট করেনি বলে ভালো লাগলো। এই পাথরের স্তূপকে যে "কেয়ার্ন" বলা হয় সেটাও জানলাম, যদিও এটা শোনার পর থেকে খালি নিউজি ল্যান্ডের হেঞ্ছাম ক্রিকেটার ক্রিস কেয়ার্নের কথা মনে পড়ছিলো খালি।


    উঠার পথে আরেক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে দেখা হল। নাম ক্যাঙ্গারু র‍্যাট। কাঠবিড়ালি জাতের এই ইদুর পানি ছাড়াই বেচে থাকতে পারে এই উষর মরুতে। শিকড় বাকড় পাতা এসব অন্যান্য খাবার থেকেই সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পানি। 

     পথে উঠতে উঠতে আরও চোখে পড়লো পাহাড়ের গায়ে সৃষ্টি হওয়া কিছু গুহা। ওয়েস্টার্ন কাহিনীর বিখ্যাত বুচ ক্যাসিডী আর সান্ড্যান্স কিডের আস্তানা ছিলো এইসব গুহা। কাছে পিঠে ট্রেইন ডাকাতি করে এসে এই গুহায় একবার গা ঢাকা দিলে কোন শেরিফের বাপের সাধ্য এই ভুল ভুলাইয়া থাকে খুঁজে বের করে।


    অবশেষে পা ফেললাম পাহাড়ের মাথায়। একটা বাঁক ঘুরতেই দেখা মিললো ডেলিকেট আর্চ নামের এই বিখ্যাত প্রাকৃতিক আশ্চর্যের উপর। মানুষ যতই কল্পনা করুক না কেন, প্রকৃতি সব সময়ই সেই কল্পনাকে ছাড়িয়ে যায়। 



    আর্চের ঠিক নিচেই নেমে গেছে খাড়া পাহাড়ের ঢাল। প্রতিনিয়ত ভাঙ্গা গড়ার খেলায় ব্যস্ত এই ভূ-স্বর্গে এখনো দাঁড়িয়ে থাকা এই তোরনটি আর ক'দিন থাকবে তা বলা যায় না। তবু প্রতি বছর তোরণের মাথার উপরের ঐ সমান্তরাল অংশের খাঁজে খাঁজে পাখিরা বাসা বাধে। পড়ন্ত বিকেলের আলোয় সমস্ত লালীমা গায়ে মেখে পর্যটকদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে ডেলিকেট আর্চ। ক্যামেরার লেন্স যে এখনো মানুষের চোখের সমান হতে পারেনি সেই উপলব্ধি থেকে একে একে পর্যটকেরা এই অপার্থিব সৌন্দর্যকে পিক্সেলে বন্দী করার আশা বাদ দেয়। মেঘ ফুড়ে আসা সূর্যের আলোয় বিছানো নীলচে সবুজ পাহাড়ের কোলে লাল পাথরের ভাস্কর্যের দিকে তাকিয়ে এই মানব জীবন নিয়ে গভীর ভাবনা হয়ত আচ্ছন্ন করে মনকে। হঠাৎই নীরবতা গ্রাস করে পাহাড়চূড়ায় জড় হওয়া মুখরিত মানুষগুলোকে।  






    বিশ্রামের ফাকে কেউ খুলে বসে খাবারের প্যাকেট, আর তাইতে গন্ধ শুকে হাজির হয় দু চারটে ক্যাঙ্গারু র‍্যাট।


    ছটফটে আর অসম্ভব কিউট চেহারার প্রানীগুলোর কয়েকটা ছবি তুলে ফেলি চটপট। তারপর ফিরতি পথ ধরি।




    নীল সবুজের এই পৃথিবীর মধ্যে এইরকম আজব মঙ্গল গ্রহ মার্কা জায়গা কিভাবে তৈরি হল? প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে কলোরাডো নদীর অববাহিকায় এই জায়গা ছিল সমুদ্রের পানির নিচে। একসময় সমুদ্র সরে গেল, পানি শুকিয়ে গিয়ে পড়ে রইলো লবন আর বালির আস্তর। তারপর একসময় আবার সমুদ্র এগিয়ে এসে ডুবিয়ে দিল এই জায়গাটা, আবার সরে গেল। এইভাবে এক দু'বার নয় ঊনত্রিশবার সমুদ্রের আসা যাওয়া চললো, আর প্রতিবারে রেখে গেল, শুকনো লবনের আস্তরণ, হাজার হাজার ফুট গভীর। এরপর প্রায় পনের কোটি বছর আগে শেষবার সমুদ্র মিলিয়ে যাবার পর থেকে এখানে এসে জমা হতে লাগলো কলোরাডো নদীর বয়ে নিয়ে আসা পলি আর পাথর। একসময় পুরো জায়গাটাই ঢেকে গেলো লাল বেলেপাথরেরে নিচে। কিন্তু পাথরের চে যেহেতু লবনের ঘন্ত্ব অনেক কম, এই ভার নিতে পারলো না নিচের লবনের স্তর, ধ্বসে পড়লো জায়গায়। এভাবেই প্রায় পনের কোটি বছর আগে তৈরি হলো টিলা আর উপত্যকা আর মালভূমি গুলি আর উপরের পাথরের স্তর গুলো সময়ের সাথে তৈরি করলো এই অন্য দুনিয়া। লালা বেলে পাথরের কারনেই আজব সব আকার আকৃতিতে মাথা উচিয়ে ভুপ্রাকৃতিক গঠণগুলোকে মঙ্গল গ্রহের সাদৃশ্যিক মনে হয়।
    লবনের স্তর ধ্বসে পড়ার পর এবার খেল দেখানো শুরু করলো বৃষ্টি আর বাতাস। যদিও এই এলাকায় বৃষ্টি হয় কালে-ভদ্রে, কিন্তু যখন হয় তখন শুকনো মাটি সাৎ করে শুষে নেয় সব পানি। ভু_গর্ভস্থ পানিতে ধীরে ধীরে গলে ক্ষয় হয়ে যায় নিচের লবনের স্তর। ফলে জায়গায় জায়গায় আবার ধ্বসে পড়ে বেলেপাথরের স্তূপ এবং পাখানার মতো সরু সরু শৈল শিরা উপশিরা তৈরি হয়। বাতাসে ক্ষয় হতে থাকে এই সব পাথরেরে দেয়ালের নিচের অংশগুলো, কোথাও কোথাঅ উপরে বীমের মতো অংশ আস্ত রেখেই নিচের পাথর আর বালি ধ্বসে পড়ে। এভাবেই তৈরি হয় এক একটি তোরণ বা আর্চ। আরও ভালো ভাবে জানতে হলে দেখুন ডিস্কভারি চ্যানেলের তৈরি এই ডকুমেন্টারি টি। 

    ইউটাহ স্টেটেরে মোঅ্যাব শহরেরে কাছাকাছি এই ন্যাশনাল পার্কে এমন তোরণের সংখ্যা ২০০০ এর উপরে।  মানুষ গলে যাবার সমান ফোকড় না হলে তোরণ বলে ধরাই হয় না, কাজেই ছোটখাট তোরণ বা জানালা হিসেবে ধরলে সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে। যেটা মজার ব্যাপার আজকে যেটা ছোট জানালার ফোকড় মনে হচ্ছী, কাল কিন্তু সেটাই বিশাল তোরণে পরিণত হতে পারে। কখন যে পাথর বালি ধ্বসে পড়ে এই তোরণ তৈরি হবে, তা বলার কোন উপায় নেই, কারন এমনটা হর হামেশাই ঘটে এখানে। অনেক আর্চই মানুষের জানা সময়ের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নতুন আর্চ। এই ইউটিউবের যুগে একদল টুরিস্টের উপস্থিতিতে ভিডিও ক্যামেরার সামনেই ভেঙ্গে পড়ে বিখ্যাত ল্যান্ডস্কেপ আর্চের এক অংশ। 

    এই জায়গাটাকে ভিন গ্রহ মনে হবার আরেকটা কারণ হলো, এখানের মাটির রঙ। উচু পাহাড় গুলি লাল রঙের হলেও অনেক জায়গার মাটিই সবজে- নীল রঙের। কেন? সেই যে সমুদ্রের আসা যাওয়া চলেছিল এই মাটির উপর দিয়ে তখন এখানে  তারা রেখে গিয়েছে সবুজ- নীল রঙের সায়ানো ব্যাক্টেরিয়া। এই অনুজীব গুলো মাটি কামড়ে পড়ে থেকে বংশ বিস্তার করে এই রুক্ষ এলাকায়। এই প্রজাতিটিকে রক্ষা করার জন্য পার্কে নির্ধারিত রাস্তা ছাড়া বাকি জায়গায় পা না ফেলতে অনুরোধ করা হয় পর্যটকদের। কারন একবার পায়ের নিচে পিষে  গেলে প্রায় হাজার বছর লাগে  ব্যকটেরিয়ার কলোনি পুনর্গঠন করতে। তবে এই কারনে এই ব্যাক্টেরিয়ার স্তরের মাঝে লেখা হয়ে যায় হাজার বছরের ইতিহাস।

    সকল ছবির আলোকচিত্রীঃ আশরাফ ইসলাম (ইমন)। 
    শেষ একটা ছবি, "বুলা" র। আমাদের দুজনের নিরুদ্দেশ ঘুরাঘুরির সঙ্গী।